স্বামীকে ছেড়ে প্রে'মিকের সঙ্গে বসবাস, সেখানেই একাধিক পুরুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সুমাইয়া

প্রে'মিক বাপ্পী ও সুমাইয়া আক্তারের প্রে'ম যেন নাট'কী'য়তারও উর্ধ্বে! তাদের প্রে'মের পরিণয় হলো হ'ত্যার মাধ্যমে। এর নেপথ্য কারণ হিসেবে সুমাইয়ার একাধিক পুরুষের সঙ্গে স'ম্পর্ককে দায়ী করা হচ্ছে।

যশোরের ঝিকরগাছার সুমাইয়া আক্তার হ,ত্যার দায় শিকার করেছেন গ্রে,ফতার প্রে'মিক আলামিন ওরফে বাপ্পী। গ্রে,ফতার আলামিন ওরফে বাপ্পী ঝিকরগাছা উপজে'লার কাউরিয়া চৌধুরীপাড়ার আলাউদ্দিন গাজীর ছে'লে।

সোমবার বিকেলে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আ'দালতের বিচারক পলা'শ কুমা'র দালাল জবানব'ন্দি গ্রহণ শেষ তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এ মা'মলায় আ'দালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানব'ন্দিতে বাপ্পী জানান, একাধিক পুরুষের সঙ্গে সুমাইয়ার স'ম্পর্ক আছে এমন স'ন্দেহে তাকে ছু,রিকাঘাতে হ,ত্যা করা হয়েছে।

জানা যায়, ২০১২ সালে শার্শা উপজে'লার রেজাউল হকের মে'য়ে সুমাইয়ার সঙ্গে বাপ্পীর প্রে'মের স'ম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর প্রায় ৩ বছর পরই বাপ্পী বিদেশ চলে যান। ২০১৮ সালে বাপ্পী দেশে ফিরে এসে জানতে পারেন সুমাইয়ার বিয়ে হয়ে গেছে। এরপর প্রে'মিকার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন আবারও যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন বাপ্পী। ধীরে ধীরে পর'কী'য়ায় মত্ত হয়ে পড়েন সুমাইয়া।

যশোর পু'লিশের মুখপাত্র ডিবির ভা'রপ্রাপ্ত কর্মক'র্তা (ওসি) রূপণ কুমা'র সরকার বাপ্পীর বরাত দিয়ে তিনি জানান, বছর খানেক আগে স্বামীর বাড়ি থেকে পালিয়ে প্রে'মিক বাপ্পীর কাছে চলে আসেন সুমাইয়া। ঘটনাটি জানাজানি হলে মাতব্বরদের মধ্যস্থতায় সুমাইয়াকে তার স্বামীর কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তিনমাস আগে ফের স্বামীর বাড়ি থেকে পালিয়ে প্রে'মিক বাপ্পীর কাছে চলে আসেন সুমাইয়া।

এরপর যশোর শহরে স্বামী-স্ত্রী' পরিচয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন বাপ্পী ও সুমাইয়া। সেই সময়ে একাধিক পুরুষের সঙ্গে সুমাইয়ার স'ম্পর্ক রয়েছে বলে বাপ্পীর স'ন্দেহ হয়। এ নিয়ে মনোমালিন্য হলে বাপ্পীর কাছ থেকে চলে যান সুমাইয়া। কিন্তু এরপর থেকে বাপ্পীর ফেসবুক আইডিতে ও মেসেঞ্জারে সুমাইয়া বিভিন্ন পুরুষের সঙ্গে তোলা ছবি পাঠাতে থাকেন। এ ঘটনায় সুমাইয়ার প্রতি বাপ্পীর প্রচণ্ড ক্ষোভ জন্মে।

যশোর পু'লিশের মুখপাত্র জানান, সুমাইয়াকে হ,ত্যার পরিকল্পনা করেন বাপ্পী। গত ২৩ মা'র্চ সুমাইয়াকে মোবাইল ফোন করে তার সঙ্গে শেষবার দেখা করার অনুরোধ জানান বাপ্পী। পরদিন বিকেল ৩টার দিকে সুমাইয়া বাপ্পীর সঙ্গে দেখা করলে তারা একটি মোটরসাইকেলে করে বেনাপোলে যান।

সেখানকার এক মা'দকব্যবসায়ীর কাছ থেকে এক বোতল ফেনসিডিল কিনে দুজনে সেবন করেন। এরপর তারা মোটরসাইকেলে ঝিকরগাছায় ফিরে আসেন এবং বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরির পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে চাঁপাতলা গ্রামের ঝিনুকদাহ মাঠের

ফাঁকা স্থানে যান। সেখানে যাওয়ার পর লুকিয়ে রাখা একটি চাকু নিয়ে আচ'মকা সুমাইয়ার বুকে বসিয়ে দেন বাপ্পী। এ সময় দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তিও হয়। সুমাইয়া পরাস্ত হলে তার দুই হাতের রগ ও গলা কে'টে হ,ত্যা করেন বাপ্পী।

হ,ত্যার পর ওই রাতেই নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন বাপ্পী। র,ক্তমাখা পোশাক দেখে জিজ্ঞেস করলে মায়ের কাছে সুমাইয়াকে হ,ত্যার কথা স্বীকার করেন বাপ্পী। এ কথা শুনে তার মা ছে'লের র,ক্তমাখা পোশাক আ,গুনে পুড়িয়ে ফেলেন।

এরপর বাপ্পী মণিরামপুরের মুক্তারপুরে চাচা জুয়েলের বাড়িতে গিয়ে আ,ত্মগো'পন করেন। চাচা তার কাছ থেকে সব কথা শুনে মোটরসাইকেলসহ তাকে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক এক বন্ধুর চেম্বারে নিয়ে গিয়ে লুকিয়ে রাখেন।

এরপর সেখান থেকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজে'লার বংশীপুরে চলে যান বাপ্পী। তথ্যপ্রযু'ক্তির সাহায্যে সোমবার সকাল সাড়ে ৫ টার দিকে সেখানে অ'ভিযান চালিয়ে বাপ্পীকে গ্রেফ,তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে হ,ত্যাকা'ণ্ডে ব্যবহৃত

মোটরসাইকেলটি জ'ব্দ করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পালাতে সহায়তা করায় চাচা জুয়েলকে মনিরামপুরের মুক্তারপুর থেকে আ'ট'ক করা হয়।

এর আগে সোমবার সকালে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজে'লার বংশীপুর থেকে গোয়েন্দা (ডিবি) পু'লিশের সহায়তায় তাকে গ্রে,তার করে ঝিকরগাছা থা'না পু'লিশ। এছাড়া পালিয়ে যেতে সহায়তার

অ'ভিযোগে তার চাচা জুয়েল হোসেনকে মনিরামপুর উপজে'লার মুক্তারপুর থেকে গ্রে,ফতার করা হয়। জুয়েল হোসেন মনিরামপুর উপজে'লার মুক্তারপুর গ্রামের মৃ'ত আবু বক্কার গাজীর ছে'লে।

Back to top button