৫০ টাকার তরমুজ ভোক্তার হাতে পৌছায় ৫০০ টাকায়

চলছে রোজার মাস, সেই সঙ্গে কাঠফাটা গরম। আর গরমে রোজার দিনে পানিজাতীয় ফলের প্রতি মানুষের আগ্রহ থাকে বেশি। ফলে এ সময় অনেকেরই পছন্দ তরমুজ। শরীর ঠাণ্ডা করে আবার গলাও ভেজায় এই ফল। ফলে ব্যাপক চাহিদা বেড়েছে রসালো ফল তরমুজের।

বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালি, খেবুপাড়া, ভোলার সদর, চরকাজল, চরবিশ্বা'স ও চরমোন্তাজ বিভিন্ন জে'লায় উৎপাদিত হওয়া এ মৌসুমী ফলটি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে। কখনও কখনও কৃষক নিজেই ক্ষেত থেকে তরমুজ সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তরমুজ বিক্রি করে। আবার কখনও তরমুজ ব্যবসায়ীরা কৃষকের কাছ থেকে তরমুজ ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করে। এরই'মাঝে কিছু অসৎ ব্যবসায়ী শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলে বেশি মুনাফার আশায় তরমুজের উৎপাদন খরচের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি লাভে বিক্রি করছে ভোক্তার কাছে।
তরমুজ চাষি ও ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিটি তরমুজ ছোট-বড় সাইজ অনুযায়ী গড়ে চাষিদের উৎপাদন খরচ হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। সাইজ অনুযায়ী চাষীরা দ্বিগুণ অথবা তিনগুণ লাভে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি করে পাইকারদের নিকট। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সেই তরমুজ সরবরাহ করতে পাইকারদের খরচ হচ্ছে আরও ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে পাইকররা সেই তরমুজ খুচরা বিক্রেতাদের নিকট আকার ভেদে ১৫০ থেকে ২৯০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেন। এদিকে খুচরা বিক্রেতারা সেই তরমুজ দ্বিগুণ দামে বিক্রি করেন। খুচরা বিক্রেতারা ২০০ টাকার তরমুজ (আড়ৎ ও পরিবহন খরচ সংযু'ক্ত) বিক্রি করে সাড়ে তিনশ টাকায় থেকে ৪শ’ টাকায় আর ৩০০ টাকার তরমুজ (আড়ৎ ও পরিবহন খরচ সংযু'ক্ত) কিনে সেটি বিক্রি করে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়। এভাবেই চাষী থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পৌছতে প্রতিটি তরমুজের দাম বেড়ে যায় প্রায় ৮ থেকে ১০ গুণ।

পটুয়াখালী থেকে মানিকগঞ্জে তরমুজ বিক্রি করতে আসা পাইকার আনোয়ার হোসেন জানান, আমা'র ভাই এ বছর পটুয়াখালীর খেবুপাড়া এলাকায় ৫ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছে। এতে সব মিলিয়ে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৯০ হাজার টাকা। এবছর ফলন একটু কম হয়েছে, তাতে প্রায় আড়াই হাজার তরমুজ হয়েছে। প্রতিটি তরমুজের উৎপাদন খরচ ৩৫ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত হয়। সেই তরমুজ আমি আড়াই লাখ টাকায় কিনে মানিকগঞ্জে পাইকারি বিক্রি করতে নিয়ে এসেছি। ছোট তরমুজ ৮০-৯০ টাকা, মাঝারি তরমুজ ১৪০-১৮০ টাকা ও বড় তরমুজ ২৪০-২৮০ টাকা পিছ হিসেবে বিক্রি করি। তবে খুচরা বিক্রেতারা আমাদের কাছ থেকে পাইকারি দামে কিনে নিয়ে ডাবল দামে বিক্রি করে। খুচরা বিক্রেতারা একটু বেশি লাভ করে। এজন্য ভোক্তা পর্যন্ত পৌছাতে পৌাছাতে তরমুজের দামি এত বেড়ে যায়।

মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকার ফল পট্টিতে তরমুজ কিনতে আসা মনির হোসেন নামের এক ব্যক্তি বলেন, রমজান উপলক্ষে তরমুজের দাম বেশি। বাড়তি দামে তরমুজ কেনার সাম'র্থ্য নেই। অ'তিরিক্ত দামের কারণে এ বছর এখনো সন্তানদের তরমুজ খাওয়াতে পারিনি।

ইম'রান হোসেন নামের আরেক ক্রেতা বলেন, এই গরমে রোজা রেখে ইফতারের সময় তমুজ খেতে ভালো লাগে। পরিবারের লোকজনও তরমুজ খেতে ভালোবাসে। তাই দাম বেশি হলেও বাধ্য হয়েই তরমুজ কিনতে হচ্ছে।

অ'তিরিক্ত দামে তরমুজ বিক্রির কারণ জানতে চাইলে একাধিক খুচরা ব্যবসায়ী বলেন, তরমুজ পচনশীল ফল। বেশীদিন সংরক্ষণ করে রাখা যায়না। পাইকারী ব্যবসায়ীরা বড় তরমুজের ভেতর ছোট তরমুজ ঢুকিয়ে দিয়ে বেশী দামে বিক্রি করে। এছাড়া আড়ৎদারদের কমিশন ও পরিবহন খরচতো আছেই। সেই দাম ওঠাতে গিয়ে তরমুজ একটু বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ জে'লা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, অ'তিরিক্ত হাত বদলের কারণে তরমুজের দাম তুলনামুলক একটু বেশি হচ্ছে। তবে বিক্রেতারা অধিক মুনাফার আশায় যাতে নিয়ম বহির্ভূতভাবে বেশি দামে বিক্রয় করতে না পারে এবং বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে আম'রা নিয়মিত অ'ভিযান পরিচালনা করছি এবং মনিটরিং করছি।

Back to top button