বিএনপি’র ৫ সিদ্ধান্তের অ'পেক্ষায় উন্নয়ন সহযোগীরা

বিএনপি এখন সরকারের বি'রুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহলে ধরনা দিচ্ছে। প্রতিদিন বিভিন্ন দূতাবাসে বিএনপি নেতারা বৈঠক করছে। ভা'রতীয় দূতাবাসের ইফতার পার্টিতে ছুটে গেছে। মা'র্কিন যু'ক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা করার জন্য বিএনপি নেতারা ম'রিয়া হয়ে অ'পেক্ষা করছে। আর এরকম যোগাযোগের প্রধান কারণ হলো সরকারকে চাপে ফেলা এবং আগামী নির্বাচনের ব্যাপারে যেন আন্তর্জাতিক মহল, বিশেষ করে উন্নয়ন সহযোগীরা একটি স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করে সেজন্য তাদেরকে প্রভাবিত করা। কিন্তু বিএনপি’র সঙ্গে যেকোনো আলোচনাই পাঁচটি প্রশ্নের থমকে যায় এবং বিএনপি’র পাঁচটি সিদ্ধান্তের অ'পেক্ষায় রয়েছে উন্নয়ন সহযোগীরা। এজন্যই তারা এখনো বাংলাদেশের নির্বাচন এবং বিএনপি’র ভূমিকা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কোনো মন্তব্য করছে না বা বিএনপির দাবির প্রতি কোনো ধরনের সহানুভূতি দেখাচ্ছে না। যে পাঁচটি প্রশ্ন বিএনপি নেতাদের করছেন উন্নয়ন সহযোগীরা তার মধ্যে রয়েছে,

১. জামায়াতের সঙ্গে স'ম্পর্ক থাকবে কিনা?: বিএনপি’র সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রধান মতবিরোধের জায়গা হলো জামায়াতের সাথে স'ম্পর্ক। পশ্চিমা দেশগুলো এবং ভা'রত বারবার বিএনপি জামায়াতের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে স'ম্পর্ক ত্যাগ করার কথা বলেছে। কিন্তু এ ব্যাপারে বিএনপি পরিস্কার কোনো বক্তব্য এখনো দেয়নি। যদিও বিএনপি এখন প্রকাশ্যে জামায়াতের সঙ্গে বৈঠক করেছে না, কিন্তু বিভিন্ন জনসভায় বা বিভিন্ন কর্মসূচিতে জামায়াতের নেতাদেরকে দেখা যায়। বিএনপি’র অনেক নেতাই গোপনে জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং ২০ অকার্যকর থাকলেও জামায়াতের সঙ্গে স'ম্পর্ক রয়েছে। এ ব্যাপারে বিএনপি এখন পর্যন্ত তার অবস্থান থেকে সরে আসেনি।

২. দলের ভেতর জ'ঙ্গী এবং মৌলবাদীদের কি হবে?: আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মনে করে যে, বিএনপি’র মধ্যে বেশকিছু জ'ঙ্গী এবং মৌলবাদী গোষ্ঠী রয়েছে। গত নির্বাচনে মা'র্কিন যু'ক্তরাষ্ট্র বলেছিল যে, এরকম ২৯ জনকে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে। কাজেই এই সমস্ত জ'ঙ্গী এবং মৌলবাদীদেরকে দলে রাখা হবে কিনা সেটি একটি বড় প্রশ্ন পশ্চিমা উন্নয়ন সহযোগীদের। তারা বিএনপিকে একটি সেকুলার উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে দেখতে চায়।

৩. সাম্প্রদায়িক অবস্থান পরিবর্তন হবে কিনা?: বিএনপি’র অনেক ক্ষেত্রেই অবস্থান সাম্প্রদায়িক বলে মনে করেন পশ্চিমা বিশ্ব এবং এটি গণতন্ত্রের জন্য একটি হু'মকি। বিএনপি কি এই সাম্প্রদায়িক অবস্থান থেকে সরে আসবে কিনা এই প্রশ্নের উত্তরও উন্নয়ন সহযোগীরা পায়নি। তাদের অবস্থান

৪. দু'র্নীতির ব্যাপারে অবস্থান কি?: বিএনপি’র শীর্ষ দুইজন নেতাই দু'র্নীতিগ্রস্ত। আর এ কারণেই বিএনপি তার গঠনতন্ত্র সংশোধন করেছে। এখন যেকোন দু'র্নীতিবাজরাও বিএনপি’র নেতা হিসেবে থাকতে পারেন। এরকম বাস্তবতায় বিএনপি’র দু'র্নীতিবিরোধী অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ। বরং বিএনপি দু'র্নীতির পক্ষে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ব্যাপারেও বিএনপি’র কোনো ব্যাখ্যা নেই।

৫. নির্বাচনের ব্যাপারে বিএনপি’র সর্বশেষ অবস্থান কি?: পশ্চিমা উন্নয়ন সহযোগীরা বিএনপি’র কাছে যেটি জানতে চায় যে, বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনের ব্যাপারে তাদের অবস্থান কি? নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ববধায়ক সরকারের দাবিটি কোনোভাবেই এখন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গ্রহণযোগ্য নয়। এর বদলে বিএনপি’র বিকল্প কোনো প্রস্তাব আছে কিনা? বা কি হলে তারা নির্বাচনে যাবে এ স'ম্পর্কে বিএনপি’র কাছে উন্নয়ন সহযোগীরা ব্যাখ্যা চেয়েছে। কিন্তু তারা এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায় নি। এই পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর না দিলে বিএনপি তার আ'ন্দোলন বা নির্বাচনের ব্যাপারে উন্নয়ন সহযোগীদের সম'র্থন এবং সহানুভূতি পাবে বলে মনে হয় না।

Back to top button