চিকিৎসক বাবা তার বড় মে'য়েকে বেশি ভালোবাসতেন

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজে'লার বালিয়াখোড়া ইউনিয়নে স্ত্রী' ও দুই সন্তানকে হ'ত্যার দায় স্বীকার করেছে দন্ত চিকিৎসক আসাদুজ্জামান রুবেল। সম্প্রতি ঋণগ্রস্ত হয়ে হতাশায় ভুগছিলেন তিনি। আর সেই হতাশা থেকেই ঘুমন্ত স্ত্রী' আর দুই মে'য়েকে গলা কে'টে হ'ত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পু'লিশ। গ্রে'ফতারের পর পু'লিশের কাছে ও আ'দালতে ১৬৪ ধারায় জবানব'ন্দিতে রুবেল (৪০) স্ত্রী' ও দুই মে'য়েকে হ'ত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

নি'হতরা হলেন রুবেলের স্ত্রী' লাভলী আক্তার (৩৫), বড় মে'য়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী ছোঁয়া আক্তার (১৫) ও ছোট মে'য়ে পঞ্চ'ম শ্রেণির ছা'ত্রী কথা আক্তার (১২)।

জবানব'ন্দিতে রুবেল জানান, ২০০০ সালে ভালবেসে রুবেল ও লাভলী বিবাহ করেন। বেশ সুখেই কাটছিল তাদের দিন। প্রায় ১৫ বছর আগে রুবেল তার বাবার বাড়ি থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়ে একই গ্রামে শ্বশুরের জামিতে টিনের ছাপড়া ঘরে স্ত্রী' ও দুই মে'য়েকে নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। এরই মধ্যে বিভিন্ন সময় নানান ব্যবসা করে লোকসান দেন। এর পর দন্ত চিকিৎসার ওপর কোর্স করে পার্শ্ববর্তী বানিয়াজুরী বাসষ্ট্যান্ডে একটি দোকান নেন। দীর্ঘদিন সেখানে দন্ত চিকিৎসা করেন। ঈদের আগে একটি রোগীকে ভুল চিকিৎসা করায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম আজাদসহ কয়েকজন তাকে দেড়লাখ টাকা জ'রিমান করেন এবং ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হু'মকি দেন। এরপর থেকে রুবেল অনেকটা মানসিক ভা'রসাম্যহীন হয়ে পড়েন। জ'রিমানার ওই টাকা রোববার পরিশোধ করার কথা ছিল। এ নিয়ে শনিবার রাতে স্ত্রী'র সঙ্গে ঝগড়া হয়। শেষ রাতের দিকে তাদের হ'ত্যা করে তিনি বাড়ি থেকে বের হয় আত্মহ'ত্যার চেষ্টার করেন।

স্বজনরা জানান, রুবেল তার বড় মে'য়েকে বেশি ভালোবাসতেন। অভাব অনটনের সংসারেও কোনো কিছুর অভাব তাকে বুঝতে দেননি। দন্ত চিকিৎসাও বড় মে'য়েকে শেখাচ্ছিলেন। ছোয়া এবার বানিয়াজুরী সরকারী স্কুল অ্যান্ড কলেজের মানবিক শাখার এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। লেখাপড়ায় বেশ ভালো ছিল বলে শিক্ষকরাও তাকে আদর করতেন। ছোট মে'য়ে কথাও লেখাপড়ার বেশ ভালো ছিল। চঞ্চল প্রকৃতির মে'য়েটি তার হাসিমাখা কথায় আত্মীয় স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশীকে মাতিয়ে রাখতেন।

হ'ত্যা স'ম্পর্কে রুবেল জানান, ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন লাভলী আক্তার ও দুই মে'য়ে কথা ও ছোয়া। ভোর রাতে প্রথমে লাভলী আক্তারকে মা'থায় আ'ঘাত করে কার্যত অচেতন করে ফেলেন। পরে মুখে বালিশচাপা দিয়ে মৃ'ত্যু নিশ্চিত করে ঘরে থাকা ধারালো দা দিয়ে গলা কে'টে ফেলেন। এরপর প্রথমে ছোট মে'য়েকে এবং পরে বড় মে'য়েকে একই কায়দায় গলাকে'টে হ'ত্যা করেন। পরে তিনি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে গিয়ে বাসের নিচে পড়ে আত্মত্যার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে উ'দ্ধার করে পু'লিশের হাতে তুলে দেন।

লাভলীর মা হালিমা বেগম বলেন, সকালে প্রাতঃভ্রমণ শেষে মে'য়ের বাড়িতে যাই। এসময় ডা'কাডাকি করেও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরের বাইরের শেকল খুলে দেখা যায় র'ক্ত। পরে দেখি খাটে পড়ে আছে তার মে'য়ে লাবনী ও দুই নাতনির র'ক্তাক্ত ম'রদেহ। তিনি রুবেলের দৃষ্টান্তমূলক শা'স্তি চান।

ঘিওর থা'নার ওসি রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বিপ্লব বলেন, রোববার বিকেলে রুবেলকে মানিকগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আ'দালতে পাঠানো হয়। তিনি আ'দালতে ১৬৪ ধারায় হ'ত্যার দায় স্বীকার করে জবানব'ন্দি দিয়েছেন। এই ঘটনায় লাভলীর বাবা সাইজ উদ্দিন বাদী হয়ে ঘিওর থা'নায় মা'মলা করেছেন। ময়না ত'দন্ত শেষে তিনজনের ম'রদেহই দাফন করা হয়েছে।

Back to top button