এটিএমকে নিয়ে হানিফ সংকেতের যে স্ট্যাটাস ভাই'রাল

বরেণ্য অ'ভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান আর নেই। শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা ০৬ মিনিটে সূত্রাপুরের নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বা'স ত্যাগ করেন তিনি। এটিএম শামসুজ্জামান। একটি নামই শুধু নয়, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে একটি দুর্দান্ত ইতিহাস। একাধারে তিনি একজন অ'ভিনেতা, পরিচালক, কাহিনীকার, চিত্রনাট্যকার, সংলাপকার ও গল্পকার। শুরুতে মঞ্চে কাজ করতেন অ'ভিনেতা হিসেবেই। এছাড়া চলচ্চিত্র জীবন শুরু করেন কৌতুক অ'ভিনেতা হিসেবে। এরপর আসেন খল অ'ভিনয়ে। অসংখ্য চলচ্চিত্রে এটিএম শামসুজ্জামানের খল চরিত্রগুলো আজও জীবন্ত।

দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদির নিয়মিত শিল্পী ছিলেন এটিএম শামসুজ্জামান। এই অনুষ্ঠানটির নন্দিত নির্মাতা হানিফ সংকেতের বহু নাট'কেও অ'ভিনয় করেছেন প্রবীণ এই শিল্পী। তাই এটিএমকে হা'রানোর ব্যথায় ব্যাথিত হানিফ সংকেত।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এটিএম শামসুজ্জামানের সঙ্গে তোলা কয়েকটি ছবি শেয়ার করে হানিফ সংকেত স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তার আবেগঘন সেই স্ট্যাটাস ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাই'রাল হয়ে গেছে। হানিফ সংকেত লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকে ঝরে গেলো আরও একটি নক্ষত্র। সবার প্রিয় অ'ভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান। আমাদের এটিএম ভাই। বর্ণাঢ্য যার অ'ভিনয় জীবন। বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা নিয়ে দীর্ঘদিন অ'সুস্থ ছিলেন। অবশেষে আজ (শনিবার) সকালে সূত্রাপুরে তার নিজস্ব বাসভবনে শেষ নিঃশ্বা'স ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

অ'ত্যন্ত মেধাবী, প্রা'ণবন্ত, বিনয়ী, সহ'জ-সরল, সাদামাটা মানুষ ছিলেন এটিএম ভাই। ছিলেন একজন আদর্শ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। অ'সুস্থতার সময় নিয়মিত তার খোঁজ-খবর রাখতে চেষ্টা করতাম। হাসপাতা'লেও গিয়েছি। রুনী ভাবীর সঙ্গে নিয়মিত কথা হতো। এটিএম ভাই ছিলেন ইত্যাদির বিশেষ অনুষ্ঠানগুলোর প্রায় নিয়মিত শিল্পী। এছাড়া আমা'র অন্যান্য অনুষ্ঠান ও অনেকগুলো নাট'কে তাকে নেয়ার সুযোগ হয়েছিল। তাই কাছ থেকে দেখেছি, গভীরভাবে মেশার সুযোগ পেয়েছি। ছিলো আন্তরিক স'ম্পর্ক। ’

জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদিকে নিয়ে এটিএম শামসুজ্জামানের মূল্যায়ন স'ম্পর্কে হানিফ সংকেত লেখেন, ‘ইত্যাদির প্রতি তার একটা বিশেষ দুর্বলতাও ছিল। আর সেজন্যই চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায়ও তিনি বারবার ইত্যাদির কথা স্ম'রণ করেছেন। হাসপাতা'লে দেখতে গেলে সুস্থ হয়ে আবারও ইত্যাদির ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন। আর তাই প্রথম যখন কিছুটা সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন তখনই ভাবী আমাকে জানিয়েছিলেন এটিএম ভাই ইত্যাদিতে অ'ভিনয় করতে চান। যেহেতু আম'রা আমাদের নিজস্ব শ্যুটিং স্পটে শ্যুটিং করি এবং এখানকার পরিবেশ, খাওয়া-দাওয়া সবকিছুতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তাই তার বিশ্বা'স এখানে এসে অ'ভিনয় করলে তার শারীরিক কোনো অ'সুবিধা হবে না। তাই এখান থেকেই তিনি আবার যাত্রা শুরু করতে চান। ’

এটিএমের সঙ্গে কাজের অ'ভিজ্ঞতা নিয়ে হানিফ সংকেত লেখেন, ‘আরেকজন বর্ষীয়ান অ'ভিনেতা মাসুদ আলী খানের সঙ্গে জুটি করে সেসময় ইত্যাদির জন্য ছোট্ট একটি নাট্যাংশ নির্মাণ করেছিলাম। যেটি পরবর্তীতে ইত্যাদিতে প্রচারিত হয়। আর ইত্যাদিতে করা সেই অ'ভিনয়টুকুই ছিলো এটিএম ভাইয়ের জীবনের শেষ অ'ভিনয়। অনেক শিল্পীরই বিকল্প তৈরি হয় কিংবা করা যায় কিন্তু এটিএম শামসুজ্জামানের কখনোই কোন বিকল্প ছিলো না, আর তৈরি হবে কিনা জানি না। তার প্রতিটি চরিত্রই ছিলো তার অ'ভিনয় নৈপুণ্যে আলাদা বৈশিষ্ট্যের। এই মহান শিল্পীর মৃ'ত্যুতে আম'রা গভীরভাবে শোকাহত। আম'রা তার মাগফিরাত কামনা করছি।’

এটিএম শামসুজ্জামানকে নিয়ে হানিফ সংকেতের এই স্ট্যাটাসটি ইতোমধ্যে ভাই'রাল হয়ে গেছে। রোববার সকাল সাড়ে ৯ টা পর্যন্ত ৫ লাখ ৭১ হাজার লাইক পড়েছে। ২৮ হাজার ফেসবুক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন এই পোস্টের নিচে। আর ১১ হাজারেরও বেশি শেয়ার হয়েছে এটি।

Back to top button