ঈদ উপহার পেয়ে কাঁদলেন চঞ্চল

দেশের বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় অ'ভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। নাট্যকার বৃন্দাবন দাস ও অ'ভিনেত্রী শাহনাজ খুশি দম্পতির সঙ্গে এই অ'ভিনেতার স'ম্পর্ক বেশ পুরনো। তাদের সবার বাড়িই পাবনা। বুধবার (২১ জুলাই) এই তারকা দম্পতির ছে'লের থেকে ঈদ উপহার পেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আপ্লুত হয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন চঞ্চল চৌধুরী। অ'ভিনেতার ফেসবুক স্ট্যাটাসটি বিডি২৪লাইভ-এর পাঠকদের জন্য তুলে ধ'রা হলো।

“অধিকাংশ বাবা মায়েরাই সর্বস্ব দিয়ে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে সন্তান লালন পালন করেন, সন্তান যেন মানুষের মতো মানুষ হয়ে গড়ে ওঠে। আর কর্মহীন অবসর জীবনে যেন সন্তানের কাছে একটু আশ্রয় পান….. সন্তানের প্রথম উপার্জনের টাকায় কেনা ছোট্ট একটা উপহার, স্বর্গীয় সুখ এনে দেয়…..। কেউ কেউ ভাবছেন আমা'র ছে'লে ‘শুদ্ধ’ বোধ হয় ওর প্রথম উপার্জনের টাকায় আমাকে কিছু কিনে দিয়েছে!!

না, শুদ্ধ তো মাত্র ক্লাস ফাইভে। তবে শুদ্ধরই এক বড় ভাই, নাম তার দিব্য জ্যোতি, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, সেই সাথে নিজেও একটা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পার্ট টাইম পড়ায়। মাঝে মাঝে অ'ভিনয় করে টেলিভিশন, সিনেমায়, বিজ্ঞাপনে। দিব্য’র একটা জমজ ভাই আছে, নাম তার সৌম্য জ্যোতি। সেও একই কাজ করে। দিব্য-সৌম্য’র বাবা নাট্যকার বৃন্দাবন দাস আর মা শাহনাজ খুশি। দিব্য-সৌম্য আমা'র সন্তান তুল্য… কিন্তু ওরা আমাকে কখনই পিতৃ স্থানীয়ভাবে না…. ভাবে বন্ধু স্থানীয়…. তুই তুকারী করে কথা বলে, কখনো আমা'র নাম ধরে ডাকে, কখনো আমা'র নাট'কের কোনো চরিত্রের নামে ডাকে…. কি একটা অবস্থা, বলে বোঝানো যাবে না। আমিও ওদেরকে আমা'র বন্ধু এবং সমবয়সীই ভাবি… তাতে আমা'র বয়সটাও একটু কমে, এই আর কি!!! সেই দিব্য সেদিন হঠাৎ আমাকে অ'বাক করে দিলো!

কিছুদিন আগে দিব্য তার উপার্জনের প্রথম টাকায় মাকে শাড়ি, আর বাবাকে মোবাইল ফোন কিনে দিয়েছিল। সৌম্যও তার প্রথম উপার্জনের টাকায় ওর মাকে শাড়ি কিনে দিয়েছিল। যাই হোক, দিব্য এবার ঈদে তার উপার্জনের টাকায় আমাকে একটা পাঞ্জাবি কিনে দিয়েছে। ঈদ উপহার….এটা কোনো কথা??? আমি আনন্দে কাঁদবো নাকি কি করব, তখন বুঝে উঠতে পারছিলাম না। আনন্দটুকু প্রকাশ করতে এখনো আমা'র চোখটা ভিজে উঠছে, আর বুকের ভেতর একটা প্রশান্তি বয়ে যাচ্ছে। এই তো সেদিনের কথা…. ছোট্ট ছোট্ট হাত, পা, মুখ নিয়ে কোলে উঠতো, আশপাশে ঘুর ঘুর করতো দিব্য-সৌম্য…. দিব্য’র এই উপহার আমা'র কাছে অনেক অনেক আনন্দের, অনেক ভালোবাসার….. দিব্য-সৌম্য’র মতো হয়তো শুদ্ধও একদিন এমনটাই করবে।

আমা'র মতো অনেক বাবা-মা’ই আছেন, যারা কাঙালের মতো এই স্বপ্নটাই দেখেন। একটা দিনের কথা খুব মনে পড়ছে…. আমি তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্র। দিনে দুই/তিনটা টিউশনি করি। আমা'র মায়ের স্বর্ণের একটা চেইনের খুব শখ ছিল, কিন্তু আমাদের তেমন কোনো অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ছিল না। মনে মনে ইচ্ছা ছিলো, আমা'র মায়ের এই শখটা আমি একদিন পূরণ করবো। যাই হোক, অনেক ক'ষ্ট করে টিউশনির টাকা জমিয়ে যেদিন মাকে একটা স্বর্ণের চেইন কিনে দিয়েছিলাম, আমা'র মা সেদিন অনেক কেঁদেছিল…. মায়ের সেই চোখের জল সোনার মতোই চিক চিক করছিল। চোখের জলে কতটা আনন্দ লুকিয়ে থাকে আমি সেদিন দেখেছিলাম….

আমা'র অনেক গুলা সন্তান… ভাগনা-ভাগ্নি, ভাতিজা-ভাতিজি, শুদ্ধ… সবাই তোরা বাবা-মায়ের আশ্রয় আর আনন্দ হয়ে ওঠ। তোদের সবার জন্য আশীর্বাদ…. সকল সন্তানই যেন সকল বাবা-মায়ের আশ্রয় হয়ে ওঠে।“

Back to top button