ফকির আলমগীরের মৃ'ত্যুতে রাষ্ট্রপতির শোক

একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট গণসংগীত শিল্পী ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দ সৈনিক ফকির আলমগীর এর মৃ'ত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ।

শুক্রবার (২৩ জুলাই) রাতে বঙ্গভবন থেকে পাঠানো এক শোক বার্তায় এ শোক জানানো হয়।

এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ফকির আলমগীরের মৃ'ত্যুতে দেশের সঙ্গীত অঙ্গনে যে শূন্যতা সৃষ্টি হলো তা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। তার গান তরুণ প্রজন্মের মাঝে দেশপ্রে'মের নবজাগরণ ও মুক্তিযু'দ্ধের চেতনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।’
রাষ্ট্রপতি ম'রহু'ম ফকির আলমগীরের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
এদিকে, ফকির আলমগীরের মৃ'ত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই শিল্পীর মৃ'ত্যুতে শোকবার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, এ দেশের সঙ্গীতাঙ্গনে বিশেষ করে গণসংগীতকে জনপ্রিয় করে তুলতে তার ভূমিকা স্ম'রণীয় হয়ে থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী ম'রহু'মের আত্মা'র মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
এর আগে শুক্রবার (২৩ জুলাই) রাত ১০টা ৫৬ মিনিটে করো'নাভাই'রাসে (কোভিড-১৯) আ'ক্রান্ত হয়ে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় মা'রা যান একাত্তরের কণ্ঠযোদ্ধা, গণসংগীত শিল্পী ফকির আলমগীর। মৃ'ত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।
মৃ'ত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ছে'লে মাশুক আলমগীর রাজীব। মৃ'ত্যুকালে তিনি স্ত্রী', তিন ছে'লে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) রাতে একটি বেসরকারি হাসপাতা'লে করো'নায় আ'ক্রান্ত গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীরকে ভর্তি করা হয়। তার আগে কয়েক দিন ধরে ফকির আলমগীর জ্বর ও খুসখুসে কাশিতে ভুগছিলেন। পরে তিনি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। চিকিৎসকের পরাম'র্শ মতো কোভিড-১৯ পরীক্ষা করিয়ে জানতে পারেন, তিনি করো'না পজিটিভ। সেদিনই তার শ্বা'সক'ষ্ট শুরু হয়।
পরে গ্রিনরোডের একটি হাসপাতা'লে নেওয়া হয়। ওই সময় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) প্রয়োজন পড়লে সেখান থেকে তাকে গুলশানের একটি হাসপাতা'লে ভর্তি করা হয়।
ফকির আলমগীর ১৯৬৬ সালে ছাত্র ইউনিয়নের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। রাজপথে বিভিন্ন আ'ন্দোলনে তাকে বহুবার দেখা গেছে। তিনি ষাটের দশক থেকে গণসংগীতের সঙ্গে যু'ক্ত। ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠী ও গণশিল্পী গোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে শামিল হন এ গণসংগীত শিল্পী। এরপর ১৯৭১ সালে মুক্তিযু'দ্ধ শুরু হলে তিনি যোগ দেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে। তিনি একাত্তরের কণ্ঠযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত।
স্বাধীনতার পর পাশ্চাত্য সংগীতের সঙ্গে দেশজ সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে বাংলা পপ গানের বিকাশে ভূমিকা রাখেন এ শিল্পী। সংগীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সরকার ১৯৯৯ সালে ফকির আলমগীরকে একুশে পদক দেয়।
জগন্নাথ কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে পরবর্তী পর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর করা ফকির আলমগীর গানের পাশাপাশি নিয়মিত লেখালেখিও করেন। ‘মুক্তিযু'দ্ধের স্মৃ'তি ও বিজয়ের গান’, ‘গণসংগীতের অ'তীত ও বর্তমান’, ‘আমা'র কথা’, ‘যারা আছেন হৃদয় পটে’সহ বেশ কয়েকটি বই প্রকাশ হয়েছে তার।

Back to top button