ফুটপাতেই ১০ বছর ভিক্ষুক জীবন পু'লিশের শুটারের!

ওয়েব ডেস্ক

আপডেট
০২-০১-২০২১, ১০:৪৬
ফুটপাতেই ১০ বছর ভিক্ষুক জীবন পু'লিশের শুটারের!
ফুটপাতেই ১০ বছর ভিক্ষুক জীবন পু'লিশের শুটারের!
মনীষ মিশ্র, ছিলেন ভা'রতের মধ্যপ্রদেশ পু'লিশের দক্ষ শুটার। গত এক দশক ধরে ভিক্ষুকের মতো ঘুরছেন পথে পথে। ১০ বছর ধরে ঠিকানা তার ফুটপাত। কেউ করুণা করলে খাবার জুটেছে, না হলে অভুক্ত সারা দিন। পরিবার-পরিজন সবই আছে তার। কিন্তু সব থেকেও কিছুই যেন তার নেই।

জানা গেছে, মানসিক ভা'রসাম্য হা'রানোর পরই মনীষের জীবনে সবকিছু তালগোল পা'কিয়ে যায়। একসময় পু'লিশের চাকরিটা চলে যায় তার। আর ‘পাগল’ ছে'লে কোথায় কী' করে বসে, তাই পরিবারও দূরে ঠেলে দেয়। এভাবেই চলে যাচ্ছিল তার ভবঘুরে জীবন। পুরনো ব্যাচ'মেটদের সঙ্গে হঠাৎ দেখা হয় তার। মনীষকে দেখে তারা চিনতে পারেননি। কিন্তু মনীষের চিনতে ভুল হয়নি। এরপর যা ঘটে, তা কম নাট'কী'য় নয়।

মধ্যপ্রদেশ উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাস্তায় বেরিয়েছিল বিজয় মিছিল। সেই মিছিল ঘিরে অ'প্রীতিকর কিছু যাতে না ঘটে তা দেখার দায়িত্বে ছিলেন ডিএসপি রত্নেশ তোম'র ও বিজয় ভাদোরিয়া। ফুটপাতে হঠাৎ তাদের নজর যায় এক ভিক্ষুকের দিকে। কী' মনে করে পরনের ভালো জ্যাকেটটি পু'লিশ অফিসার বিজয় তার হাতে তুলে দেন। রত্নেশ সিং তোম'র দেন একজোড়া নতুন জুতা।

ফিরেই আসছিলেন তারা। কিন্তু ওই ভিক্ষুক ভাদোরিয়ার নাম ধরে ডা'কায় বিস্মিত হন অফিসার। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে আবারও এগিয়ে যান ওই ভিক্ষুকের দিকে। জিজ্ঞাসায় জানতে পারেন তিনি মনীষ মিশ্র। এরপর আর তাকে চিনে নিতে অ'সুবিধা হয়নি দুই পু'লিশ অফিসারের।

ভাদোরিয়া বলেন, মনীষ আমাদের ব্যাচের সেরা ১০ শুটারদের একজন ছিল। সে একজন ভালো এথলেটও। সে বিভিন্ন থা'নায় পু'লিশ ইনচার্জ হিসেবে কাজ করেছে।

১৯৯৯ সালের ব্যাচ'মেট তারা! মনীষকে তারা সঙ্গে করে নিয়ে যেতে চান। কিন্তু মনীষের তীব্র আ'পত্তিতে শেষ পর্যন্ত তাকে নিয়ে যাওয়া হয় এক আশ্রমে। সেখানেই তার মানসিক চিকিৎসারও ব্যবস্থা হয়েছে।

জানা গেছে, মনীষের বাবা ও চাচা দুজনই অ্যাডিশনাল এসপি পদে থেকে অবসর নিয়েছেন। মনীষের ভাই থা'নার অফিসার ইনচার্জ। তার বোন কাজ করেন দূতাবাসে। ডাটিয়া জে'লায় শেষ পোস্টিং ছিল সাব-ইনস্পেক্টর মনীষের। তারপরই মানসিক অ'সুস্থতা।

এই ১০ বছর ভোপালের একাধিক আশ্রম ও ভবঘুরে কেন্দ্রে তাকে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু প্রতিবারই তিনি পালিয়ে যান। তার পরিবারেরও দাবি, মনীষকে তারা ঘরে ধরে রাখার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন।

Back to top button