পৃথিবীর যেসব দেশে তাপমাত্রা ওঠে ৫০ ডিগ্রির ওপরে

সারা'বিশ্বে প্রতিবছর বাড়ছে অ'তিরিক্ত গরম পড়া দিনের সংখ্যা। ১৯৮০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার দিনের সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়েছে। মানুষের স্বাস্থ্য-ঝুঁ'কি বাড়ছে, মানুষের বেঁচে থাকা দিনদিন কঠিন হয়ে পড়ছে।

সারা'বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনের চরম ভ'য়াবহতার সাক্ষী হতে যাচ্ছে। প্রতিদিনই একটু একটু করে বৈরি হচ্ছে আবহাওয়া, নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন।

এ সংক্রান্ত একটি গবেষণা করেছেন মা'র্কিন একদল পরিবেশ বিজ্ঞানী। সংবাদ মাধ্যম বিবিসি’তে প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ১৯৮০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রতি বছর বেড়েছে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে তাপমাত্রা ওঠা দিনের সংখ্যা। ১৯৮০ সাল থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে ১৪ দিন হয়েছে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে তাপমাত্রা ওঠা দিনের সংখ্যা। ২০১০ সাল থেকে ২০১৯ সালে এই দিনের সংখ্যা বেড়ে ২৬ দিন হয়েছে।

একই সময়ে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে তাপমাত্রা ওঠা দিনের সংখ্যা বছরে অ'তিরিক্ত দুই সপ্তাহ বেড়েছে। অ'তিরিক্ত জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের কারণে পৃথিবীর জলবায়ু দিনদিন নিয়ন্ত্রণের চলে যাচ্ছে। ১৯৮০ সাল থেকে ২০২০ সালের মধ্যে অনেক স্থানে নতুন করে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে তাপমাত্রা পৌঁছেছে। অ'তিরিক্ত এই তাপমাত্রা মানুষের বেঁচে থাকা কঠিন করে দিচ্ছে। ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে তাপমাত্রা উঠছে মধ্যপ্রাচ্য আর গালফভুক্ত দেশগুলোতে।

চলতি বছর ইতালিতে রেকর্ড তাপমাত্রা পৌঁছেছে প্রায় ৪৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, কানাডায় প্রায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস উঠেছে তাপমাত্রা। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে না আসলে আরও অনেক অঞ্চলে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠবে তাপমাত্রা।

পূর্ব ইউরোপ, দক্ষিণ আফ্রিকা আর ব্রাজিলে ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে বেড়েছে তাপমাত্রা। যেখানে পৃথিবীর মেরু অঞ্চল আর্কটিক আর মধ্যপ্রাচ্যে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে তাপমাত্রা। বিজ্ঞানীরা নভেম্বরে কার্বন নিঃসরণ কমাতে আর উষ্ণায়ন নিয়ন্ত্রণে আনতে জাতিসংঘের সামিটে অংশ নেওয়ার কথা আছে।

এ নিয়ে সংবাদ মাধ্যম বিবিসি একটি ডকুমেন্টারি প্রকাশ করছে ‘লাইফ এট ফিফটি ডিগ্রি সেলসিয়াস’। এতে স্পষ্ট, কিভাবে সারা'বিশ্বের তাপমাত্রা বাড়ছে।

গবেষণা বলছে, এভাবে যদি বিশ্বের তাপমাত্রা বাড়তে থাকে, ২১০০ সালের মধ্যে বিশ্বের ১২০ কোটি মানুষ হিট স্ট্রেসের সম্মুখীন হবে। এখন যারা অ'তিরিক্ত গরমে মানসিক চাপে আছেন, এই সংখ্যা ভবিষ্যতে ৪ গুণ বাড়বে। খরা আর দাবানল বাড়ছে। মানুষের বেঁচে থাকই দুর্বিষহ হয়ে যাচ্ছে। ১৯৮০ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে এই দুই দশকে সমুদ্র আর ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অনেক বেড়েছে।

Back to top button