শনিবার শিক্ষার্থীরা সড়কে লাল কার্ড প্রদর্শন করবে

আগামীকাল সড়কে নামবে শিক্ষার্থীরা লাল কার্ড নিয়ে। সড়কে দু'র্নীতির বি'রুদ্ধে তাদের এই কর্মসূচি। শনিবার বেলা ১২ টায় রামপুরা ব্রিজ এলাকায় লাল কার্ড প্রদর্শন করে তারা। শুক্রবার নিরাপদ সড়কের দাবিতে রামুপরায় আ'ন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা এ ঘোষণা দেয়। আ'ন্দোলনরত খিলগাঁও মডেল কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী সামিয়া বলেন, আমাদের লাল কার্ড প্রদর্শনী সড়কের দু'র্নীতির বি'রুদ্ধে। দেখা যায় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে চালকরা লাইসেন্স ও ফিটনেস গাড়ি চালাচ্ছে। এতে করে যত্রতত্র দুঘর্টনা ঘটছে। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি পালন করে যাবো। এইচএসসি পরীক্ষার্থী যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন সেই চিন্তা মা'থায় নিয়ে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

এর আগে বেলা ১১টায় শিক্ষার্থীরা রামপুরা ব্রিজ এলাকায় অবস্থান নেয়। আধা ঘন্টা অবস্থান করে সেখান থেকে তারা সরে যায়। এ বিষয়ে রামপুরা থা'নার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইস'লাম জানিয়েছেন, বেলা ১১ টার দিকে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেয়। তবে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক আছে। সেখানে পু'লিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। যেকোনো অ'প্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় পু'লিশ কাজ করবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নিরাপদ সড়কের দাবিতে রামপুরা ও খিলগাঁও এলাকার বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের একটি দল পু'লিশের বাধার মুখেও রামপুরা ব্রিজ এলাকায় মানববন্ধন ও বি'ক্ষোভ সমাবেশ করে। তাদের প্রতিনিধি সোহাগী সামিয়া অ'ভিযোগ করেন, ‘সকালেও আম'রা এসেছিলাম। কিন্তু পু'লিশ তখন বাধা দেয়। রাষ্ট্র-পু'লিশ শান্তিপূর্ণ আ'ন্দোলন চায় না। আম'রা ১০-১৫ জন শিক্ষার্থী ছিলাম বলে পু'লিশ দাঁড়াতে দেয়নি। পরে আম'রা আবার একত্রিত হয়ে সমাবেশ করি। যত বাধা আসুক, মৃ'ত্যু ঝুঁ'কি থাকলেও দাবি আদায়ে আ'ন্দোলন চালিয়ে যাব।’

‘পু'লিশ দিয়ে আ'ন্দোলন বন্ধ করা যাবে না’, ‘হা'মলা করে আ'ন্দোলন বন্ধ করা যাবে না’, ‘ভ'য় দেখিয়ে আ'ন্দোলন বন্ধ করা যাবে না’, ‘সড়ক সড়ক চাই, নিরাপদ সড়ক চাই’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’- ইত্যাদি স্লোগান এ সময় দিতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। গত কয়েকদিন রামপুরা ব্রিজ এলাকার সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা বি'ক্ষোভ দেখালেও বৃহস্পতিবার এই সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। শিক্ষার্থীসহ সড়কে নি'হত সবার স্ম'রণে দুই মিনিট নীরবতা পালন করা হয় মানববন্ধনে। শুক্রবার সকাল ১০টায় আবারও রামপুরা ব্রিজে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়ে দুপুর সোয়া ২টায় ওই এলাকা ত্যাগ করেন শিক্ষার্থীরা।

ঢাকা মহানগর পু'লিশের খিলগাঁও জোনের অ'তিরিক্ত উপ কমিশনার নুরুল আমীন বলেন, ‘সরকার ও বাস মালিকপক্ষ তাদের দাবি-দাওয়া মেনে নিয়েছে। এখন আ'ন্দোলনের যৌক্তিকতা নেই। আ'ন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করার জন্য ছাত্রদের সাথে দুষ্কৃতকারীরা ঢুকে পড়েছে।’সরকার বাসের ভাড়া বাড়ানোর পর থেকে শিক্ষার্থীরা আগের মত অর্ধেক ভাড়া দেওয়ার দাবিতে আ'ন্দোলন করে আসছে। প্রতিদিনই তারা বিভিন্ন এলাকায় সড়ক আ'ট'কে বি'ক্ষোভ দেখাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২৪ নভেম্বর সিটি করপোরেশনের গাড়ির ধাক্কায় নটর ডেম কলেজের এক শিক্ষার্থী এবং সোমবার রাতে রামপুরায় বাসের চাপায় এক এসএসসি পরীক্ষার্থী নি'হত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ আরও বাড়ে। ঢাকা পরিবহন মালিক সমিতি মঙ্গলবার সকালে সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষার্থীদের ‘হাফ’ ভাড়ার দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। কিন্তু বিকালে তা প্রত্যাখ্যান করে আ'ন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন ৯ দফা দাবিতে আ'ন্দোলনে থাকা শিক্ষার্থীদের একটি দল। তাদের দাবি, কেবল ঢাকা মহানগরে নয়, ‘হাফ’ ভাড়া চালু করতে হবে সারা দেশে এবং সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টার বদলে তা হতে হবে ২৪ ঘণ্টার জন্য।

Back to top button