ভাতিজিকে দাফন করতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘ'টনায় প্রা'ণ হারালেন মেজর সুরাইয়া !

বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে উজিরপুর উপজে'লার আটিপাড়া এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স-কাভা'র্ডভ্যান ও যাত্রীবাহী বাসের ত্রিমুখী সং'ঘর্ষে ৬ যাত্রী নি'হতের ঘটনায় থা'নায় মা'মলা দায়ের হয়েছে। ওই ঘটনায় নি'হতদের একজন সে'না কর্মক'র্তা মেজর সুরাইয়া আক্তার। ঢাকার সম্মিলিত সাম'রিক হাসপাতা'লের (সিএমএইচ) আর্মড ফোর্সেস নার্সেস সার্ভিসের মেজর ও অ্যাম্বুলেন্সে বহনকারী মৃ'ত নবজাতকের ফুপু ছিলেন তিনি। তার ভাই আরিফের তিন দিন বয়সী কন্যাসন্তান মা'রা যাওয়ায় তাকে দাফন করতে এবং অ'পর ভাই তারেক হোসেন কাইউমের ২১ দিন বয়সী কন্যাসন্তানকে দেখতে ছুটি নিয়ে ওই অ্যাম্বুলেন্সে মা-ভাইদের সঙ্গে ঝালকাঠির গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সে'না সদস্যদের উপস্থিতিতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতা'লে নি'হত মেজর সুরাইয়া আক্তারের ময়নাত'দন্ত সম্পন্ন হয়। পরে ম'রদেহ ঝালকাঠির বাউকাঠি গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে গার্ড অব অনার প্রদানের পর পরিবারের বাকি মৃ'ত সদস্যদের সঙ্গে জানাজা শেষে তাকেও দাফন করা হয়।

একদিনে একই পরিবারের ৫ সদস্যকে দাফনের ঘটনায় শোকাতুর হয়ে ওঠে পুরো বাউকাঠি। নি'হত মেজর সুরাইয়া আক্তার ওরফে শিউলি ঢাকার সম্মিলিত সাম'রিক হাসপাতা'লে (সিএমএইচ) কর্ম'রত ছিলেন। দুর্ঘ'টনার পর তাৎক্ষণিক তার পরিচয় পাওয়া যায়নি। উ'দ্ধারকারী দল প্রথমে তাকে শি'শুটির মা বলে ধারণা করে। গণমাধ্যমেও এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে জানা যায় তিনি শি'শুটির ফুপু। তবে তখনও তার পেশাগত পরিচয় পাওয়া যায়নি। গভীর রাতে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে বরিশাল পু'লিশ প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে।

নি'হত মেজর সুরাইয়া আক্তার শিউলীর স্বামী আব্দুল কাইউম হোসেন ঢাকার স্টামফোর্ড ইউনিভা'র্সিটির হিসাবরক্ষণ বিভাগে কর্ম'রত। তাদের সংসারে তিন বছরের শি'শু সন্তান রয়েছে।

মেজর সুরাইয়ার স্বামী আব্দুল কাইউম জানান, দুর্ঘ'টনার সময় আমি ঢাকায় ছিলাম।

সন্তান হা'রানো শোকাতুর আরিফের স্ত্রী' তামান্নাও শারীরিক অ'সুস্থতার কারণে ঢাকায় হাসপাতা'লে চিকিৎসাধীন ছিলেন। কিন্তু এই দুর্ঘ'টনার খবর পেয়ে ভাবিকে নিয়ে আমিও বরিশালে চলে আসি। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, এমন একটা দুর্ঘ'টনায় ওই পরিবারে শুধু দুই ভাইয়ের স্ত্রী' আর ২১ দিনের শি'শুকন্যা উম্মে ফাতেমা বেঁচে রইলো। আমা'র তিন বছরের সন্তান হারালো মা, নানি, দুই মামাকে। আমি হারালাম স্ত্রী'কে। এই শোক আম'রা কী'ভাবে ভুলবো?

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, গত ২০ আগস্ট উম্মে ফাতেমা জন্মগ্রহণ করে। তাকে দেখতে এবং নবজাতক ভাতিজির দাফন সম্পন্ন করতেই ওই অ্যাম্বুলেন্সে মা-ভাইদের সঙ্গে বাড়ি যাচ্ছিলেন সুরাইয়া।

আব্দুল কাইউম জানান, নি'হত আরিফ হোসেন রাড়ি ঢাকায় একটি গার্মেন্টসের কর্মক'র্তা ছিলেন। গত ৫ আগস্ট ওই গার্মেন্ট কারখানায় যোগ দেন কাইউম। তাদের সঙ্গে নি'হত নজরুল আরিফ হোসেনের শ্যালক।

প্রসঙ্গত, ৬ সেপ্টেম্বর আরিফের স্ত্রী' তামান্না আক্তার ঢাকার উত্তরার একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে সিজারিয়ান অ'পারেশনের মাধ্যমে কন্যা সন্তান জন্ম দেন। বিয়ের ১০ বছর পরে জন্ম নেওয়া নবজাতক অ'সুস্থ হয়ে পড়লে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার রাতে শি'শুটি মা'রা যায়। বুধবার তামান্নাকে চিকিৎসায় রেখে নবজাতকের ম'রদেহ ঝালকাঠির বাউকাঠির উদ্দেশে রওনা হন ওই ৬ জন। এরপর উজিরপুরের আটিপাড়া এলাকায় ওই দুর্ঘ'টনা ঘটে।

দুর্ঘ'টনায় নি'হতরা হলেন, অ্যাম্বুলেন্সে বহন করা মৃ'ত শি'শুটির বাবা ঝালকাঠির বাসিন্দা আরিফ হোসেন রাড়ি (৩৫), শি'শুটির ছোট চাচা তারেক হোসেন কাইউম (২৭), ফুপু সুরাইয়া আক্তার শিউলী (৩০), দাদি কোহিনূর বেগম (৬৫) এবং মামা (আরিফের শ্যালক) নজরুল ইস'লাম (২৮)।

নি'হত আরিফ ও তার অ'পর দুই ভাই-বোন হচ্ছেন ঝালকাঠির বাউকাঠি গ্রামের মৃ'ত পল্লী চিকিৎসক সিরাজুল ইস'লামের সন্তান। এই পরিবারের তিন ভাই-বোন ও তাদের মায়ের করুণ মৃ'ত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউ। নি'হত অ্যাম্বুলেন্স চালক আলমগীর কবির কুমিল্লা জে'লার বাসিন্দা।

এদিকে, এ দুর্ঘ'টনার পর বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতেই নি'হত আরিফের ফুফাতো ভাই রাশিদুল হাসান সুমন বাদী হয়ে সড়ক পরিবহন আইনে কাভা'র্ডভ্যানের চালক ও হেলপারের বি'রুদ্ধে উজিরপুর থা'নায় মা'মলা দায়ের করেন। দুর্ঘ'টনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে কাভা'র্ডভ্যানের চালক ও হেলপার।

এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বরিশালের পু'লিশ সুপার সাইফুল ইস'লাম বিপিএম(বার) জানিয়েছেন, মা'মলার আ'সামিদের গ্রে'ফতারে অ'ভিযান চলছে।

Back to top button