সারাদেশে মহান বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপিত

যাদের র'ক্তের বিনিময়ে দুই যুগের পা'কিস্তানি শাসনের অবসান ঘটেছিল এবং বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটেছিল স্বাধীন বাংলাদেশের সমগ্র জাতি আজ তাদের স্ম'রণ করেছে।

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে বীর সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষেরা সাম্প্রদায়িক অ'পশক্তিকে উৎখাত, মুক্তিযু'দ্ধের পরাজিত শক্তিসহ সকল ‘অন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র’ রুখে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

নয় মাসব্যাপী র'ক্তক্ষয়ী যু'দ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি নতুন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। সেই বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে এবং বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন দূতাবাসে উদযাপিত হয়েছে।

বিকালে বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে সারা দেশের জনগণকে একযোগে শপথ বাক্য পাঠ করান বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সারাদেশের সব জে'লা ও বিভাগীয় শহর থেকে একযোগে সবাই জাতীয় শপথ পাঠ করছেন। এ সময়ে মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর সাথে ছোট বোন শেখ রেহানা উপস্থিত ছিলেন।

বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে ‘মহাবিজয়ের মহানায়ক’ শিরোনামে বৃহস্পতি ও শুক্রবার (১৬ ও ১৭ ডিসেম্বর) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আয়োজনের প্রথম দিন আজ বিকালে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে শপথ বাক্য পাঠ করান। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

কৃতজ্ঞ জাতির সকল শ্রেণী পেশার মানুষ এর আগে আজ সকালে সাভা'র জাতীয় স্মৃ'তিসৌধে শ্রেষ্ঠ সন্তানদের বিন¤্র শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সমবেত হয়। শোক আর র'ক্তের ঋণ শোধ করার গর্ব নিয়ে উজ্জীবিত জাতি দিবসটি উদযাপন করে অন্য রকম অনুভূতি নিয়ে।

শীতের কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাস উপেক্ষা করে সর্বস্তরের মানুষ ভোর থেকেই সাভা'রে স্মৃ'তিসৌধের বাইরে ও আশপাশের মহাসড়ক এলাকা এবং ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে সমবেত হতে থাকে।

ভোরের সূর্য ওঠার আগেই ফুল, মা'থায় বিজয় দিবস লেখা ব্যান্ড, জাতীয় পতাকা নিয়ে স্মৃ'তিসৌধে নেমেছিল জনতার ঢল। বিন¤্র চিত্তে সমগ্র জাতি ত্রিশ লাখ শহীদকে আরো একবার জানিয়ে দিল ‘আম'রা তোমাদের ভুলবো না।’

দিবসটি উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারিভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে বিজয় দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়।

সকাল সোয়া ৭ টায় সাভা'র জাতীয় স্মৃ'তিসৌধে স্মৃ'তিস্তম্ভের বেদিতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্যদিয়ে শুরু হয় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন। এ সময় শহীদদের স্ম'রণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। পরে শেখ হাসিনা দলীয় প্রধান হিসেবে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নিয়ে স্মৃ'তিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এ সময় বঙ্গবন্ধুর ছোট কন্যা ও প্রধানমন্ত্রীর বোন শেখ রেহানা, আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান ও এ এইচ এম খায়রুজ্জমান লিটন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও আ ফ ম বাহা উদ্দিন নাছিম, মুক্তিযু'দ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গো'লাপ, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়–য়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী স্মৃ'তিসৌধস্থল ত্যাগ করার পর তা সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য খুলে দিলে সাধারণ মানুষের ঢল নামে।

এ সময়ে স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, কূটনীতিক, রাজনীতিবিদ, শিল্পী-বুদ্ধিজীবী, মুক্তিযোদ্ধা, পেশাজীবী, শ্রমিক আর শিক্ষার্থীদের স্বতঃষ্ফুর্ত শ্রদ্ধায় ফুলে ফুলে ভরে উঠে স্মৃ'তিসৌধের বেদী।

শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও বিজয় উল্লাসে জাতীয় স্মৃ'তিসৌধ চত্বর মুখর ছিলো বিভিন্ন বয়সী মানুষের পদচারণায়। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির ধ্বংসাত্মক, নৈরাজ্যকর কর্মকা'ন্ড প্রতিহত করতে নানা স্লোগান, দেশাত্মবোধক গান, বঙ্গবন্ধুর ৭ মা'র্চের ভাষণ বেজে চলছিল বিরামহীনভাবে। জাতীয় স্মৃ'তিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে আসা জনতার এই ঢল অব্যাহত থাকে বেলা ১ টা পর্যন্ত।

একে একে বেদীতে কেন্দ্রীয় ১৪ দল, শহীদ পরিবারের সন্তান ও যু'দ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা, বিএনপি, গণফোরাম, যু'ক্তফ্রন্ট, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি জাতীয় স্মৃ'তিসৌধে শহীদদের প্রতি বিন¤্র শ্রদ্ধা জানায়।

এ ছাড়া আওয়ামী যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ, যুব মহিলা লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, তাঁতীলীগ, জাতীয় পার্টি (জেপি), ছাত্র ইউনিয়ন, যুব ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, আম'রা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযু'দ্ধ-’৭১, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, জাকের পার্টি, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদসহ বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন হলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও স্মৃ'তিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।

বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধানমন্ডিন্থ ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে রক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর দলীয় নেতাদের নিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তিনি জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময়ে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা এ সময় বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এ ছাড়াও গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কর্ণেল (অব.) ফারুক খানের নেতৃত্বে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।এদিকে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সকালে রাজারবাগ স্মৃ'তিসৌধে মুক্তিযু'দ্ধে শহীদ বীর পু'লিশ সদস্যদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে বাংলাদেশ পু'লিশ। এতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ডিএমপি’র একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে শহীদদের সম্মান জানায়।

দিবসটি উপলক্ষে সকল সরকারি-আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনায় আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়ক দ্বীপগুলো জাতীয় পতাকা ও রঙ-বেরঙের পতাকায় সাজানো হয়।

শহীদদের আত্মা'র শান্তি, জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে ম'সজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ সব ধ'র্মের উপাসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। হাসপাতাল, জে'লখানা, বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা, শি'শু পরিবার ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানগুলোতে উন্নতমানের খাবার সরবরাহ করা হয়।

মহান বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ইস'লামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মুকাররম জাতীয় ম'সজিদে পবিত্র কোরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মহান মুক্তিযু'দ্ধে শাহাদাত বরণকারী সকল শহীদ এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রূহের মাগফেরাত কামনা করা হয়।-বাসস

Back to top button