পদ্মাসেতু রেলের জন্য বগি ও কোচ আসছে যে দেশ থেকে

পদ্মা সেতুর মূল দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার। আর দুপ্রান্তে ভায়াডাক্ট নামে পরিচিত মাটি থেকে মূল সেতুর সংযোগ পর্যন্ত উড়াল সেতুর দৈর্ঘ্য মোট ৩.৬৮ কিলোমিটার। সবমিলিয়ে পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ৯.৮৩ কিলোমিটার। এরইমধ্যে ভায়াডাক্টের প্রায় ৩.৬৮ কিলোমিটারের ওপর রেল লাইন স্থাপনের কাজ শেষ, প্রায় শেষ হয়েছে স্ল্যাবের ঢালাইয়ের কাজও। শুধু বাদ রয়েছে মূল সেতুতে রেললাইন বসানো ও স্ল্যাব ঢালাইয়ের কাজ। এই হিসাবে পদ্মা সেতু অংশে রেলের কাজ শেষ হয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।

সম্প্রতি পদ্মা সেতুর জাজিরা এলাকা ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। সেখানে কাজ করছিলেন এমন শ্রমিকরা বলছেন, আম'রা এখন দুই রেল লাইনের মাঝে যে স্ল্যাব আছে সেটির ঢালাইয়ের কাজ করছি। কাজটি ৪৭ নম্বর পিলার পর্যন্ত শেষ হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা এই কাজ চলছে।

প্রকল্প পরিচালক জানিয়েছেন, আমাদের যখন চুক্তি হয় তখনই কোথা থেকে কোন মালামাল আসবে তা ঠিক হয়ে যায়। এই প্রকল্পে ১০০টি রেলের নতুন কোচ কেনার কথা বলা হয়েছে। রেলের ফিনিশড বডি আসবে চীন থেকে। কিন্তু কোচগুলোর কিছু কিছু কম্পোনেন্ট আসবে ইউরোপ থেকে। ইউরোপ থেকে প্রথমে আসবে চীনে। সেখান থেকে ফিনিশড হয়ে বডি আসবে বাংলাদেশে। কোচের বগি আসবে জার্মানি থেকে। এছাড়া হুইল, এয়ার ব্রেক, জেনারেটর এবং বগির ফিটিংসগুলো আসবে জার্মানি ও রোমানিয়া থেকে।

তিনি আরও জানান, কোচগুলো চায়না থেকে এ বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে আসবে। এরপর আমাদের দেশে কিছু কাজ থাকবে। বগি ও বডি চীন থেকে আনার পর আমাদের দেশে সংযোজন করা হবে। তারপর সেগুলো ট্রায়াল রান করানো হবে। এসব কাজ করতে আমাদের ২-৩ মাস সময় লাগবে।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কবে নাগাদ পদ্মা সেতুর উপর দিয়ে ট্রেন চালাতে পারবে— এমন প্রশ্নের উত্তরে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের পরিচালক আফজাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের প্রথম টার্গেট ছিল মা'ওয়া থেকে ভাঙ্গা অংশটা এ বছর ডিসেম্বরের মধ্যে চালু করা। যেহেতু ব্রিজের উপর আম'রা এখনও কাজ করতে পারিনি সেজন্য আম'রা এটা পারছি না। আম'রা একবারে ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত লাইনে ট্রেন চালাব। সরকার চাইলে আগামী ২০২৩ সালের জুন মাসে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেন চালাতে পারবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই মাসের মাঝামাঝিতে সেতু কর্তৃপক্ষ সেতুতে রেলের কাজ করার জন্য আমাদের কাছে হ্যান্ডওভা'র করবে। আম'রা চেষ্টা করব জুলাইয়ের শেষ দিকেই কাজ শুরু করার। যদি না হয়, তবে আগস্টের শুরুতে অবশ্যই আম'রা কাজ শুরু করব।’

Back to top button