আবিষ্কৃত হলো বিশ্বের দ্রুততম বৈদ্যুতিক বিমান

বিশ্বের দ্রুততম বৈদ্যুতিক বিমান আবিষ্কৃত হলো। উদ্ভাবিত বিমানটির নাম স্পিরিট অফ ইনোভেশন। শুক্রবার এক বিবৃতিতে রোলস-রয়েস জানায়, তাদের তৈরি স্পিরিট অফ ইনোভেশন পরীক্ষামূলক উড্ডয়নেই তিনটি বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে। এর মধ্যে একটি উড্ডয়নে সর্বোচ্চ ৬২৩ কিমি/ঘণ্টা (৩৮৭.৪ মাইল/ঘণ্টা) গতি অর্জন করে; যা একে বিশ্বের দ্রুততম ইলেকট্রিক বিমানের খেতাব জিতিয়েছে। মূলত স্পিরিট অফ ইনোভেশন ৪০০ কিলোওয়াট <400kW (500+hp)> বৈদ্যুতিক পাওয়ার ট্রেনচালিত একটি বিমান; যা অ্যারোস্পেসে ব্যবহৃত এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী-ঘন প্রপালশন ব্যাটারি প্যাক।

১৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত উড্ডয়নে স্পিরিট অফ ইনোভেশন তিন কিলোমিটারের বেশি দূরত্ব ৫৫৫.৯ কিলোমিটার/ঘণ্টা সর্বোচ্চ গড় গতিতে অ'তিক্রম করে; যা আগের বিশ্ব রেকর্ডের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ দ্রুত। আরেকটি পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে বৈদ্যুতিক বিমানটি পনেরো কিলোমিটারের বেশি দূরত্ব অ'তিক্রমের সময় ৫৩২.১ কিলোমিটার/ঘণ্টা সর্বোচ্চ গতি অর্জন করে এবং মাত্র দুইশ দুই সেকেন্ডে শূন্য থেকে ৩০০০ মিটার (৯৮৪২ ফুট) উপরে উঠে। এর মধ্য দিয়ে বিমানটি বর্তমান বিশ্ব রেকর্ডকে এক মিনিটে ভেঙে দেয়।

অনবদ্য এসব কী'র্তির স্বীকৃতি পেতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট তথ্যগুলো বিমান চালনার আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফেডারেশন অ্যারোনটিক ইন্টারন্যাশনালের (এফএআই) কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ কর্ম স্বীকৃতি একদিকে যেমন বৈদ্যুতিক ফ্লাইটের সম্ভাবনা দেখাবে। একইসঙ্গে প্রযু'ক্তির বিকাশে সাহায্য করবে; যা একে দৈনন্দিন জীবনের একটা অংশ করে তুলতে পারে, যু'ক্তরাজ্যের বাণিজ্য সচিব কোয়াসি কোয়ার্টেং একটি বিবৃতিতে এ কথা বলেন।

স্পিরিট অফ ইনোভেশন মূলত সরকারি অর্থায়নে চালিত এক্সেলারেটিং দ্য ইলেকট্রিফিকেশন অফ ফ্লাইট (ACCEL) কর্মসূচির অংশ। যু'ক্তরাজ্য ২০৫০ সালের মধ্যে জিরো কার্বন নির্গমন অর্জনের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরকারের প্রত্যাশা রোলস-রয়েস দ্বারা উদ্ভাবিত ব্যাটারি এবং প্রপালশন প্রযু'ক্তি মানুষকে শহুরে এয়ার ট্যাক্সির মতো বিভিন্ন উদ্ভাবনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবে।

সর্বপ্রথম ২০১৯ সালে রোলস-রয়েস বৈদ্যুতিক বিমানের ধারণা দেয়। ব্র্যান্ডের পেছনের কোম্পানিটি তাদের অ'তি-লাক্স সেডানের জন্য সমধিক পরিচিত। এ ছাড়া বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমান ইঞ্জিন প্রস্তুতকারকও তারা। এর জেট ইঞ্জিন এয়ারবাস এ-থ্রিএইটজিরো (Airbus A380)-সহ অসংখ্য বিমানে ব্যবহৃত হয়। এক সময় অটোমোবাইলের সঙ্গেও জ'ড়িত ছিল রোলস-রয়েস। বিশ বছর আগে এটি বন্ধ হয়ে যায়; পরবর্তীতে এর গাড়িগুলো ভক্সওয়াগেন এবং এখন বিএমডব্লিউ (BMW) তৈরি করে।

Back to top button